শরীয়তপুরে অবৈধ ভেকু দিয়ে কৃষিজমি কেটে মৎস্য প্রকল্প তৈরির অভিযোগ
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ১১:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলায় অবৈধ ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে হাজারো কৃষক বেকার হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামের জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে প্রায় ২০ কানি ফসলি জমিতে পাঁচটি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে মৎস্য ঘের তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় অভিযোগ ওঠে, অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করেও মাটি কাটা চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রায় দেড়শ কৃষক একত্র হয়ে দুই দফায় স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি অবৈধ ভেকু দিয়ে কৃষিজমি ধ্বংসের প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।
ছয়গাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি জানে আলম বলেন, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি কাটা বন্ধের দাবিতে তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর তিনবার লিখিত অভিযোগ, স্বারকলিপি ও অনুলিপি দিয়েছেন। তার অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই এসব কাজ চলছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় দুলাল মির্জা ও মিন্টু কাজীসহ অনেকে অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক কথিত সাংবাদিকের যোগসাজশে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে বড় আকারের মৎস্য প্রকল্প তৈরি করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক মুঠোফোনে জানান, সাংবাদিক মাহবুবসহ সংশ্লিষ্টরা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে জমির মালিকদের মাধ্যমে এই মৎস্য ঘের তৈরি করছেন এবং এটি অনুমোদিত প্রকল্প। তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি রক্ষায় কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রাফসান রাব্বি বলেন, “জমিতে ৪ মাস ফসল এবং ৮ মাস মাছ চাষ—এমন শর্তে জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে।”
এদিকে একই উপজেলার সিংজালা এলাকায় মালেক মোল্লা নামে এক ব্যক্তি অবৈধ ভেকু দিয়ে কৃষিজমি কেটে চলছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রশাসন ও কিছু সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এ কাজ করছেন।
এছাড়া মহিষার, নারায়ণপুর, চরভাগা ও সখিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিল ও ফসলি জমিতে ব্যাপকভাবে মাটি কাটা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টপ সয়েল তুলে ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে জমিগুলো ১০ থেকে ২০ ফুট গভীর গর্তে পরিণত করা হচ্ছে। এতে পাশের ফসলি জমি ভেঙে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন মোল্লা বলেন, যেহেতু এটি এক ফসলি জমি, তাই সেখানে দুই ফসল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে মৎস্য ঘের তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম মুঠোফোনে জানান, উপজেলা মৎস্য ও কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করেছেন এবং অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে