সীমান্তপথে ইয়াবার আগ্রাসন: জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাটে বাড়ছে উদ্বেগ
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ৩:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় নতুন করে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তপথকে কাজে লাগিয়ে একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ইয়াবা প্রবেশ করাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ইয়াবার মূল উৎস মিয়ানমার সীমান্ত। সেখান থেকে চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিভিন্ন রুটে তা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে কিছু চালান ভারতের সীমান্তঘেঁষা পথ কিংবা দুর্গম পাহাড়ি ও নদীপথ ব্যবহার করে পাচার করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রথমে ছোট ছোট চালানে ইয়াবা সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু মধ্যস্থতাকারীর হাতে পৌঁছায়। পরে ধাপে ধাপে এটি স্থানীয় বাজার, পরিবহন রুট হয়ে শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক বা সীমান্ত এলাকার পেশাজীবীদের অজান্তেই এই চক্র ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি আন্তঃদেশীয় (ট্রান্সন্যাশনাল) নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন স্তরে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সহজলভ্যতার কারণে তরুণ সমাজ ইয়াবার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে। এক বাসিন্দা বলেন, “আগে এতটা ছিল না, এখন ছোট এলাকাতেও ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে—এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে ইয়াবার বিস্তার একটি জটিল আন্তঃসীমান্ত সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা মোকাবেলায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
১২৪ বার পড়া হয়েছে