নোয়াখালীতে শিক্ষক লাঞ্ছনা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মানববন্ধন ও উত্তেজনা
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১২টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিনের নেতৃত্বে মানববন্ধনে অংশ নেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আশরাফুল ইসলাম মারুফ, আবু সুফিয়ান, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের আকলিমা আক্তার ও মুমতাহিনা আক্তারসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পিতৃতুল্য শিক্ষকদের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে, মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছাত্রশিবিরের ইন্ধনে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। মানববন্ধন চলাকালে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাবিদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই শিবিরের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভাঙচুরের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তিন নেতাকে বহিষ্কারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতারা জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে তর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে এক শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলের টব ও একটি গ্লাস ভাঙচুর করেন, তবে এর সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
বহিষ্কৃতরা হলেন—কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন। একই ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—সে বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক পরিষদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন। ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক একটি কক্ষে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একদল ছাত্রদল নেতা-কর্মী কক্ষে প্রবেশ করে তাদের গালমন্দ করেন এবং খাবারের টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন।
পরবর্তীতে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে