সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

হরমুজ সংকটে থমকে বিশ্ব মানবিক সহায়তা, জরুরি করিডোরের দাবি জোরালো

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরবরাহে ধস নেমেছে। এতে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ছাড়াও খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পরিবহন ধীর হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে সংকট তীব্র হচ্ছে। কিছু এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)-এর জরুরি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বব কিচেন দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে একটি মানবিক করিডোর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আটকে থাকা খাদ্য ও ওষুধ দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ বীজ ও সার এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণসামগ্রী আটকে আছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। দুবাইয়ে আইআরসির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার মূল্যের ত্রাণসামগ্রী আটকে রয়েছে, যা সুদানের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল। একই সঙ্গে নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়ায় সংস্থাটির স্বাস্থ্যসেবায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ-এর পরিচালক সেসিল টেরাজ জানিয়েছেন, হরমুজ সংকটের কারণে তেল, খাদ্য, সার ও ওষুধের বৈশ্বিক সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১১১ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে বড় বড় সাহায্য সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তহবিল কমে যাওয়ার ধাক্কাও সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের মাসিক ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে এক মাস সহায়তা দেওয়া সম্ভব ছিল।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে ৩১৮ মিলিয়ন মানুষের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হতে পারে আরও ৪৫ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত মানুষ।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের সাহায্য বাজেট কমে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সাল থেকে বৈদেশিক সহায়তা ৫৭ শতাংশ কমিয়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও নরওয়েও তাদের সহায়তা ব্যয় কমিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট। সোমালিয়ায় ওষুধ আমদানির খরচ তিনগুণ বেড়েছে, মিয়ানমারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ। আফগানিস্তানে খাদ্য পরিবহন ব্যয়ও তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছে ডব্লিউএফপি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ মানবিক করিডোর চালু না হলে বৈশ্বিক মানবিক সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করতে পারে।

১০৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন