তৃণমূলের ক্রীড়া বিপ্লবঃ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন স্বপ্ন
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি ৩য় থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭টি খেলা (ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ভলিবল, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন ও সাঁতার) বাধ্যতামূলক করার যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে হলে কেবল কাগজে-কলমে নিয়ম করলে হবে না; প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন এবং প্রকৃত ক্রীড়াবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ করাতে পারলে; হতে পারে এই পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।
যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে সঠিক মানুষের হাতে দায়িত্ব প্রদানের ওপর। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের দেশের সাবেক খেলোয়াড়রা। যারা অতীতে মাঠ ও ময়দানের ঘাম ঝরিয়েছেন, তারাই সবচেয়ে ভালো জানেন একজন শিশুকে কীভাবে খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। আপনার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ সাবেক খেলোয়াড়দের নীতিনির্ধারণী ও তদারকির দায়িত্ব দিতে হবে। তাদের অভিজ্ঞতা ও প্যাশনই হবে তৃণমূলের ক্রীড়া উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
বর্তমানে প্রতিটি উপজেলায় ‘উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা’ থাকলেও সেগুলো কার্যত স্থবির ও অকার্যকর হয়ে আছে। এই সংস্থাকে সচল করতে হলে
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং সাবেক খেলোয়াড় ও প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকদের ভোটাধিকার ও নির্বাহী ক্ষমতা দিতে হবে।
উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি যেন সারাবছর কেবল খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য উন্মুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করার সর্বময় ক্ষমতা এই সংস্থাকে দিতে হবে।
যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে সঠিক মানুষের হাতে দায়িত্ব প্রদানের ওপর। বর্তমানে প্রতিটি উপজেলায় ‘উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা’ থাকলেও সেগুলো কার্যত স্থবির ও অকার্যকর হয়ে আছে।
যোগ্য ক্রীড়াবিদদের জায়গা না পাওয়া এবং জবাবদিহিতার অভাব তৃণমূলের ক্রীড়াকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় খেলার মাঠগুলো মেলা, রাজনৈতিক সভা বা অন্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকে, যা কোমলমতি শিশুদের খেলাধুলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
লেখক : কবি, কথাশিল্পী ও নির্মাতা।
১৬১ বার পড়া হয়েছে