সর্বশেষ

সারাদেশ

পটুয়াখালীতে গাছ কাটা নিয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুর বনবিভাগ এলাকায় সরকারি কেওড়া বাগান থেকে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিপুর রেঞ্জের কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানান, গত ২৩ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন যে মহিপুর থানার কুয়াকাটার তেত্রিশকানী এলাকার কেওড়া বাগান থেকে কিছু ব্যক্তি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি সঙ্গীয় বনকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা অভিযুক্তদের ৩-৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ১০ থেকে ১২টি কেওড়া গাছ কেটে নেওয়ার প্রমাণ পান, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং এতে থাকা তথ্য মুছে ফেলে। এ সময় বনকর্মীরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ইট, দা, লাঠি, কুড়াল ও করাত দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা বনকর্মীরা আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সোলেমান বিশ্বাস বলেন, “আমরা না থাকলে বন কর্মকর্তাদের মেরেই ফেলত। ৫ থেকে ৭ জন মিলে তাদের ওপর হামলা করে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, স্থানীয় আলামিন, সোলেমানসহ কয়েকজন বনের গাছ কেটে নিয়ে যায়। পরে বিট কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন বন কর্মকর্তা আহত হন।

এদিকে হামলার সময় বনকর্মী রুবেলের কাছে থাকা মানিব্যাগ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার পর এক পর্যায়ে এক বনকর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়; পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আহত বনকর্মী রুবেল হোসেন বলেন, “আমরা সরকারি সম্পদ রক্ষায় গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের মারধর করা হয়েছে এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

অভিযুক্ত আবু সালেহ ফকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আল-আমিন ফকিরের নম্বরে যোগাযোগ করলে তার ছেলে পরিচয় দেওয়া নেছার নামে এক ব্যক্তি বলেন, তার বাবা কলাপাড়ায় গেছেন। বন বিভাগের লোকজনের সঙ্গে মারধরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং তখন তিনি স্কুলে ছিলেন। তবে টাকার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছেন।

মহিপুর বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি বাগান থেকে গাছ কাটার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন