সর্বশেষ

সারাদেশ

পিরোজপুর পৌরসভায় তীব্র পানি সংকট, ৩৫শ' সক্ষমতায় ৮০০০ সংযোগ

আযরাফ ফাতিন নাফিউ, পিরোজপুর
আযরাফ ফাতিন নাফিউ, পিরোজপুর

বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:০৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পিরোজপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী।

পুরোনো অবকাঠামো এবং সীমিত সক্ষমতার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে চাহিদা পূরণ করতে না পারায় শহরে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সংযোগের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার সংযোগে পানি সরবরাহের চেষ্টা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে চাপের মুখে পড়েছে এবং নিয়মিত পানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বাসিন্দারা।

সম্প্রতি পানি সংকটের প্রতিবাদে একদল নাগরিক পৌর ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে পৌর ভবনে নাগরিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহজাহান হাওলাদার জানান, তার ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করলেও তিন দিনেও একবার পানি পাওয়া যায় না।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এ কে এম সাইফুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থেকেও দিনে মাত্র একবার অল্প সময়ের জন্য অনিয়মিতভাবে পানি পাওয়া যাচ্ছে।

একই ওয়ার্ডের মাতৃসদন সড়কের বাসিন্দা বশির আহমেদ খান বলেন, “পৌর লাইনে তিন দিনেও পানি আসে না, তাই বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপ ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পজিটিভ পিরোজপুর’-এর সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পানি সরবরাহ খাত থেকে পৌরসভার বড় একটি আয় হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

ব্যবসায়ী সালাম খান অভিযোগ করেন, নিয়মিত কর ও বিল পরিশোধ করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ, বলেশ্বর নদীতে পানির স্বল্পতা, পুকুর ভরাট এবং পুরোনো ট্রিটমেন্ট প্লান্টের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে পৌর এলাকার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ আংশিক বা অনিয়মিতভাবে পানি পাচ্ছেন।

এছাড়া জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুবিধা পেলেও ১, ৩ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

পৌরসভা সূত্র আরও জানায়, ১৯৭৫ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৬ একর জমির ওপর এই পানি সরবরাহ প্রকল্প নির্মাণ করে, যা ১৯৯৯ সালে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে বলেশ্বর নদীর পানি পরিশোধন করে দুইটি ওভারহেড ট্যাংকে সংরক্ষণের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন