নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা: আটক ১
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরের আলো ফোটার পরই স্থানীয়রা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখতে পান।
নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ রহমান (৯) এবং তিন বছরের কন্যা সাদিয়া আক্তার। সোমবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়িতে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং পরে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগিনা সবুজ হোসেনকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। সবুজ হোসেন মান্দা উপজেলার পারনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে ঘরের ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা নিয়ামতপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। তার কাছে গরু বিক্রির প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি চাই। আমার তিন বছরের নাতনিকেও তারা ছাড়েনি।”
অন্যদিকে নিহত হাবিবুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা নমির উদ্দিন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হতো।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং গরু বিক্রির টাকা লুট—উভয় বিষয়ই তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের একাধিক দল। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে