জ্বালানি তেলের সংকটে চট্টগ্রামে ভোগান্তি, দীর্ঘ লাইনে চালকরা
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার কিছু পাম্পে সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক চালক এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে ছুটছেন। ফলে যেসব পাম্প সচল রয়েছে সেখানে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এদিকে চাপ সামাল দিতে আজ থেকে অকটেনে ২০ শতাংশ এবং ডিজেল ও পেট্রোলে ১০ শতাংশ বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ডিলার ও ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরকার এ খাত থেকে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় করে। ফলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। বিপিসির অধীনে থাকা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিলারদের মাধ্যমে এই তেল বিক্রি করা হয়।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেল বিক্রি করে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বিপিসি নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় শুরু হয়। বাজারদরে তেল বিক্রির এ প্রক্রিয়া চালুর পরও মুনাফা কমেনি। গত অর্থবছরে (২০২৪–২৫) মুনাফা ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এক দশকের মধ্যে ৯ বছরই মুনাফা করেছে বিপিসি। এর মধ্যে শুধু ২০২১–২২ অর্থবছরে তারা ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা লোকসান করে।
বিপিসি সূত্র আরও বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেও তারা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়। এপ্রিলে লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই ঘাটতি কমাতে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দামে বিপিসির মাসে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা বাড়তি আয় হতে পারে, যার মধ্যে ডিজেল থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আসবে।
বিপিসি সংশ্লিষ্টরা জানান, এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। আগামী দুই সপ্তাহে ৪ লাখ ৭৮ হাজার টন ডিজেল মজুতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া সরাসরি ক্রয়ের আদেশ পাওয়া কোম্পানিগুলো সরবরাহ দিলে মজুত আরও বাড়বে।
তবে এর পরও জ্বালানি সংকট কমছে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের মধ্যে আগের বছরের তুলনায় গত মাসে ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ কমানো হয়। এপ্রিলে তা ৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে বিপিসি সরবরাহ বাড়াচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় তাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, সমস্যার মূল কারণ সরবরাহ ঘাটতি নয় বরং চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। তাদের মতে, পুরনো রেশনিং পদ্ধতিতে ডিপো থেকে তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
১১৯ বার পড়া হয়েছে