খুলনায় পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা: দাম্পত্য কলহ নাকি অজানা কারণ- রহস্য কাটেনি
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক অশান্তি নাকি অন্য কোনো অজানা কারণ—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে অন্যান্য দিনের মতোই খুলনার সোনাডাঙ্গা রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালন করতে যান সম্রাট। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ভোরে তিনি নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মরদেহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছানো হয়। এ সময় পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট ছিলেন সবার ছোট। তার বড় বোন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং ছোট বোন মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। ২০১৮ সালে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন।
চাকরিরত অবস্থায় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের নারী কনস্টেবল পুঁজা দাসের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছয় মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন। আগামী মাসে তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল।
সম্রাট খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত রয়েছেন। পরিবার জানায়, গত কয়েকদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। ঘটনার আগের রাতেও তাদের মধ্যে ফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এতে সম্রাট মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের সদস্যদের মতে, গত আশ্বিন মাসে কোর্ট ম্যারেজের পর আগামী ১৯ বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীকে ঘরে তোলার কথা ছিল। তবে সেই আয়োজন আর বাস্তবায়িত হলো না। এদিকে, সম্রাটের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি খুলনায় এলেও তারা গ্রামের বাড়িতে যাননি, যা পরিবারে দূরত্ব তৈরি করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্রাটের বাবা-মা ছেলের মৃত্যুর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা এখনো এ ঘটনাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। প্রতিবেশী আলমগীর ফকির জানান, “সম্রাট খুবই ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। যদি নিজের কষ্ট কারও সঙ্গে ভাগ করতেন, হয়তো এমনটা হতো না।”
সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, “ছয় মাস আগে সে আমাদের জানায়, সাতক্ষীরা পুলিশে কর্মরত এক মেয়েকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় আমরা তার ইচ্ছাকে সম্মান জানাই। বিয়ের পর থেকে সে পরিবারের জন্য অর্থ দিত না, সবই স্ত্রীর কাছে দিত। সহকর্মীদের কাছ থেকে জেনেছি, তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।”
তার দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, “পরিবারের সঙ্গে সম্রাটের কোনো বিরোধ ছিল না। সে যা চাইত, পরিবার তা মেনে নিত। তবে স্ত্রীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া চলছিল। এর কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে| এছাড়া আমরা আর কোনো কারণ খুঁজে পাই না।”
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে অস্ত্রাগারে দায়িত্বরত অবস্থায় সম্রাট নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের
মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে