কবিরাজি প্রতারণা: জামালপুরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরসহ মূলহোতা গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরে অনলাইন “কবিরাজি”র নামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন (২১)–কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
গ্রেফতার মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং স্থানীয় একটি ফেসবুক পেজে অভিনয়শিল্পী হিসেবেও কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, পাশের শেরপুর জেলার এক কাপড় ব্যবসায়ীর অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী (১৩) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে প্রভাবিত হয়। পরবর্তীতে টিকটকে ‘তান্ত্রিক’ পরিচয়ে খুরশেদ কবিরাজ নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
এই প্রতারক চক্রটি ইমু অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। “কবিরাজি চিকিৎসা”র নামে তারা ধাপে ধাপে টাকা আদায় করে। এর মধ্যে খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, দুধ, ফল, চন্দন কাঠসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতে বাধ্য করা হয়। এমনকি “মন্ত্রে কাজ না হওয়ায়” জোড়া শুকর জবাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটানো হয়।
গত ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের অজুহাতে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১ লাখ টাকা কৌশলে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে টাকা পাঠাতে গিয়ে দোকানদারের সন্দেহ হলে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে ভুক্তভোগীর বাবা ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন।
তদন্তে নেমে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে চক্রের দুই সদস্য মোস্তফার ছেলে মুছা মিয়া এবং নবাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামকে ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা মনির হোসেনকে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।
পিবিআই আরও জানায়, ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে বাস্তবে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। এটি একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালানো হচ্ছিল।
গ্রেফতার মনির হোসেনকে পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে