কুয়াকাটায় মৃত ডলফিন উদ্ধার, উপকূলীয় পরিবেশে উদ্বেগ
বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে আবারও একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে জোয়ারের পানির সঙ্গে ডলফিনটির মৃতদেহ তীরে এসে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, পেট ফেটে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উপরা’র সদস্য আব্দুল জলিল প্রথম ডলফিনটি দেখতে পেয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন। এ প্রজাতির ডলফিনের মাথা গোলাকার এবং সাধারণ ডলফিনের মতো লম্বা ঠোঁট থাকে না। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল ও বড় নদীগুলোতে এদের বিচরণ দেখা যায়। বিপন্ন এই প্রজাতির ডলফিন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এ ধরনের ঘটনা উপকূলীয় পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। ডলফিনের মৃত্যু পরিবেশগত অবনতির বার্তা বহন করে। দ্রুত এর কারণ উদ্ঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকির ইঙ্গিত। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসচেতন চলাচল এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উপরা’র সদস্যরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেন।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
১২৬ বার পড়া হয়েছে