খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসব শুরু
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বৈসু উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাহাড়ি জেলায় বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সামাজিক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পুরো অঞ্চলটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের পর এবার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসু’ শুরু হয়েছে।
ঐতিহ্যকে ধারণ করে সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) সকালে জেলার খাগড়াপুর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির মধ্য দিয়ে ‘হারি বৈসু’ উদযাপনের মাধ্যমে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
চৈত্র মাসের ভোরের প্রথম আলোয় দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবে অংশ নেন ত্রিপুরা নারীরা। তাঁরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা-রিসাই পরে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। বন থেকে সংগৃহীত মাধবীলতা, অলকানন্দ, জবা ও নানা ধরনের ফুল দিয়ে তাঁরা পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে নতুন বছর বরণের প্রার্থনা করেন। এ সময় ফুলের সঙ্গে নিজেদের হাতে বোনা ছোট কাপড়ও পানিতে ভাসানো হয়।
ত্রিপুরা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে এই আয়োজন করা হয়। ফুল ভাসানোর এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারী ত্রিপুরা নারীরা।
রনিতা ত্রিপুরা ও দীপালি ত্রিপুরা জানান, সারা বছর তাঁরা এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন এবং বছরে একবারই এমন আয়োজনের সুযোগ পান।
উৎসবকে ঘিরে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ণিল এই আয়োজন দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা। যশোর থেকে আসা মো. আসলাম নামের এক পর্যটক বলেন, এমন সুন্দর ও প্রাণবন্ত আয়োজন তিনি আগে কখনও দেখেননি।
আয়োজকরা জানান, এই উৎসব মূলত নারীদের অংশগ্রহণে নতুন বছর বরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ফুলের সঙ্গে হাতে বোনা কাপড় ভাসানোর মাধ্যমে রিনা-রিসাই বুননে দক্ষতা ও নিপুণতা বৃদ্ধির প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক চামেলী ত্রিপুরা বলেন, “ফুলের পাশাপাশি হাতে বোনা নতুন কাপড়ও ভাসানো হয়। এর মাধ্যমে বুননশিল্পে আরও দক্ষতা অর্জনের প্রত্যাশা করা হয়।”
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি হবে ১৫ এপ্রিল। আজ ‘হারি বৈসু’, আগামীকাল ‘বৈসুমা’ এবং বুধবার ‘বিসি কাতাল’ বা ‘আতাদার’ মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এই সামাজিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
১৬৭ বার পড়া হয়েছে