দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা
উৎসবে মিশল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মজাগরণ
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ভোরের কুয়াশা আর শিশিরভেজা প্রভাতকে সঙ্গী করে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে দিনাজপুর যেন রূপ নেয় এক জীবন্ত বাঙালিয়ানার প্রতিচ্ছবিতে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় দিনাজপুর একাডেমি স্কুল মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। ঢাক-ঢোলের তালে তালে রঙিন ব্যানার, মুখোশ ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ নিয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গড়ের শহীদ বড় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। কুলা, ঢেঁকি, পাখি ও কৃষিজীবনের প্রতীকী উপস্থাপনা শোভাযাত্রাকে করে তোলে আকর্ষণীয়। তরুণীরা বাসন্তী রঙের শাড়িতে এবং তরুণরা পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন, যা পুরো আয়োজনে এনে দেয় উৎসবের বর্ণিল আবহ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ডিডিএলজি) মোঃ রিয়াজ উদ্দিন এবং দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শোভাযাত্রা শেষে স্টেশন ক্লাবে আয়োজন করা হয় পান্তা উৎসব। পান্তা-ইলিশ, ভর্তা ও দেশীয় খাবারের পাশাপাশি পরিবেশিত হয় লোকসঙ্গীত। এতে অংশগ্রহণকারীরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, মোগল সম্রাট আকবরের সময় কৃষিকাজের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীতে এ দিনটি বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে প্রভাতী গানের মাধ্যমে যে নববর্ষ উদযাপনের ধারা শুরু হয়, তা আজ দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৬ সালে ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে বৈশাখী শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে।
দিনাজপুরে এবারের বৈশাখ উদযাপন প্রমাণ করে—নতুন বছরকে ঘিরে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস এখনো সমানভাবে প্রাণবন্ত ও উদ্দীপনাময়।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে