দৌলতপুরে জ্বালানি সংকটে গম কাটার সমস্যা, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা
বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাঠজুড়ে সোনালি গম পেকে প্রস্তুত, কিন্তু নেই কাটার গতি। জ্বালানি সংকটে হারভেস্টার মেশিন থেমে থাকায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সময়মতো গম ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে সম্ভাব্য ফলন নিয়েও শঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে দৌলতপুরে ৬ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রায় ১ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমির গম কাটা বাকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব গম অন্তত দুই সপ্তাহ আগেই কেটে ফেলার কথা ছিল। এরই মধ্যে গত সোমবার রাতের হঠাৎ বৃষ্টি ও বাতাসে অনেক জমির পাকা গম নুইয়ে পড়েছে। সামনে কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ৯৫টি হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে। তবে অধিকাংশ মেশিনই জ্বালানি সংকটে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এসব মেশিনের অনেকগুলোই মাঝে মাঝে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
নাটোরের সিংড়া থেকে আসা হারভেস্টার চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি না থাকলে মেশিন দিয়ে কাজ করা সম্ভব না। আমরা চাইলে প্রতিদিন ৪০ বিঘার বেশি গম কাটতে পারি, কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। অনেক সময় টানা দুই দিনও মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”
চাষিদের অভিযোগ, উপজেলার চারটি তেল পাম্প ও অন্তত সাতটি ডিলার পয়েন্টে স্বাভাবিকভাবে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষিকাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগও এ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
গম চাষি আকিজ বিশ্বাস বলেন, “ঈদের আগেই গম ঘরে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তেলের অভাবে তা পারিনি। পরে বৃষ্টির মধ্যে গম কাটতে হয়েছে, এতে দানার রং ও মান নষ্ট হয়েছে।”
এদিকে তেলের সরবরাহ নিয়ে সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শাওন বিশ্বাস জানান, “আমরা বরাদ্দ অনুযায়ী তেল দিচ্ছি। তবে চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। কৃষকদের কথা বিবেচনা করে ডিজেল দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
কৃষি অফিস বলছে, অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে এবার প্রতি হেক্টরে ১২০ থেকে ১২৫ মণ পর্যন্ত গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট কাটাতে কৃষকদের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন।
তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুতজ জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে শুধু গম নয়, উপজেলার অন্যান্য ফসলও ক্ষতির মুখে পড়বে। আর সেই সঙ্গে বাড়বে কৃষকের লোকসান।
২৬৮ বার পড়া হয়েছে