সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেত্রী রুবির বিরুদ্ধে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার দেবহাটায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবির বিরুদ্ধে। পৈতৃক জমি ফিরে পেতে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক প্রবাসী। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ওই নেত্রীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জবরদখল বজায় থাকায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই লিখিত অভিযোগ করেন দেবহাটার সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা ও প্রবাসী শরিফুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাদের ৮ দশমিক ১৫ একর পৈতৃক ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু বিগত ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি ও তার ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ সহযোগীরা ওই জমি জবরদখল করে নেন।
শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং বিগত সরকারের ক্ষমতার দাপটের কারণে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফিরে নিজের পৈতৃক জমিতে যান। তবে সেখানে গেলে রওশন আরা রুবি এবং তার ছেলে জায়েদ বিন কাদেরের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আরও উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর দেবহাটা থানাকে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেত্রী থানায় উপস্থিত না হয়ে উল্টো হুমকি দিতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আদালতের জিপির উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বৈঠক ত্যাগ করেন রুবি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, রওশন আরা রুবি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদ দখল করে আসছেন। এমতাবস্থায়, এই প্রভাবশালী নেত্রীর হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
১০৬ বার পড়া হয়েছে