কলাপাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানি মেগা প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাব: তথ্য প্রকাশ
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ ৯:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প বা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'প্রান্তজন'-এর উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পরিচালিত দুই বছরব্যাপী এক গণগবেষণার প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমানের কারিগরি সহায়তায় এবং ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দার সরাসরি অংশগ্রহণে ধানখালী ইউনিয়নে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গত দুই বছর ধরে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার বহুমুখী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে ধানখালী এলাকার বাসিন্দাদের আর্থিক সচ্ছলতা কমেছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সব পেশা। এছাড়া তীব্র সুপেয় পানির সংকট, আশঙ্কাজনক হারে বায়ুদূষণ, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাসের মতো পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। একই সাথে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষাক্ত বর্জ্যের ফলে এলাকায় চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল ও বহুমাত্রিক রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে স্থানীয় নারী ও শিশুরা এই স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক সংকটের প্রধান শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি গবাদিপশু ও মৎস্য সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
পরিবেশগত এই বিপর্যয় মোকাবিলায় গবেষণায় মোট পাঁচটি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিষাক্ত কয়লা বর্জ্য ও ফ্লাই অ্যাশ নিষ্কাশন বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাকশন এইডের সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার মারজিয়া জাহান এবং প্রান্তজনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ। অনুষ্ঠান শেষে গবেষণায় অংশ নেওয়া স্থানীয় গবেষকদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
১২৫ বার পড়া হয়েছে