সর্বশেষ

সারাদেশ

জয়পুরহাটের মোহাম্মদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিত্যক্ত, চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ জনগণ চার বছর ধরে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ কারণে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সীমিত আকারে চলছে, যেখানে একজন ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৮০ সালে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিনধারা গ্রামে ৭৫ শতক জমির উপর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এটি দুটি আলাদা পাকা ভবন নিয়ে গঠিত—একটি ভবন চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য এবং অন্যটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যেহেতু এটি ইউনিয়নের এবং আশেপাশের গ্রামের মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এখানে আসতেন। গুরুতর রোগিরাও এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে যেতেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জারজীর্ণ হয়ে পড়ে। দেয়াল থেকে পলেস্তারা ছিঁড়ে রড বেরিয়ে আসে, বড় ফাটল দেখা দেয়, ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। চার বছর আগে কর্তৃপক্ষ এই কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকে স্বাস্থ্য সেবা মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সীমিতভাবে চালানো হচ্ছে, যেখানে একজন ফার্মাসিস্ট রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

বিনধারা গ্রামের জাহেদুল ইসলাম জানান, “আগে আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতাম। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হয়, যেখানে মাত্র একজন চিকিৎসক আছেন। ফলে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না।”

বারকান্দি গ্রামের সাথি বেগম বলেন, “আগে এখানে একজন নারী পরিদর্শিকা ছিলেন, যিনি আমাদের রোগ শেয়ার করে পরামর্শ দিতেন। এখন সেই সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা হাসপাতালে যাই।”

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মো: বদিউজ্জামান বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বর্তমানে আমি ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। অন্যান্য স্টাফদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। আগের মতো রোগির ভিড় না হলেও যারা আসেন, তাদের এককভাবে সেবা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।”

মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ ছিল। চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে মানুষ কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। দ্রুত পুনঃনির্মাণ হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।”

জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাময়িকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে কেন্দ্রটি দ্রুত পুনঃনির্মাণের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি।”

৩৯৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন