ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশিত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ৮:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফেনীতে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ এ.এন.এম. মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আশরাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিফাত। আশরাফ ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে এবং ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মোবারক ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। রিফাত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কামালপুর এলাকার দুদুমিয়া বাড়ির মো. শাহ আলমের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ জানান, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করা হয়।
পরবর্তীতে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে শ্বাসরোধে নাশিতকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ রেললাইনের পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ যাতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য তার স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর নাশিতের বাবা ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার পর দুই দিন ধরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ফোন করা হয়। পরে তিনি পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরের বিষয়ে সন্দেহের কথা জানান। পুলিশ তুষারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিলে তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুল ব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাশিত ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
২৪৩ বার পড়া হয়েছে