সর্বশেষ

রাজনীতি

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএর আত্মপ্রকাশ, ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এ উপলক্ষে ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও তিনজন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেখানে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মীর হুযাইফা আল মামদূহ মুখপাত্র ও কাউন্সিল সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

এনপিএর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফেরদৌস আরা রুমী, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী নাজিফা জান্নাত।

ঘোষিত কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের ১০১ সদস্যের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগকারী চার নেতাও রয়েছেন। তাঁরা হলেন—এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান, সাবেক উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ এবং সাবেক কালচারাল সেলের উপপ্রধান সৈয়দা নীলিমা দোলা। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ ইমতিয়াজ নদভীও কাউন্সিলে স্থান পেয়েছেন।

কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে আরও রয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অলিউর সান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক নূমান আহমাদ চৌধুরী এবং অ্যাক্টিভিস্ট রাফসান আহমেদ।

মুখপাত্র ও কাউন্সিল সদস্যদের নাম ঘোষণার পর এনপিএর তিন মুখপাত্র সংগঠনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির পাঁচটি মূলনীতি তুলে ধরা হয়—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা।

ঘোষণাপত্রে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলা হয়, এটি কেবল শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; বরং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই অভ্যুত্থান ঘটেছিল। তবে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিসরের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভাষা ও চর্চা আবারও ফিরে আসছে। সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হচ্ছে, বাড়ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ। ধর্মীয়, জাতিগত ও লৈঙ্গিক সংখ্যালঘুদের জীবন ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও উগ্র গোষ্ঠীর হামলা অব্যাহত থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে নাগরিকের অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জনগণের শক্তিকে সংগঠিত করে আগামীর মুক্তির লক্ষ্যে এনপিএ যাত্রা শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন এনপিএর কাউন্সিল সদস্য মীর হুযাইফা আল মামদূহ। সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনপিএর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়। এতে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু, কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম, লেখক আলতাফ পারভেজ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেত্রী সীমা দত্ত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বখতিয়ার আহমেদ, শিল্পী অমল আকাশ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদারুল ভূঁইয়া, কবি জাহিদ জগৎসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

সমবেত কণ্ঠে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

২১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন