প্রেমের ফাঁদে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা: দুই যুবকের গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি
সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৭:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে কিশোরীকে ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পরে তাকে মহাখালীতে এনে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
ঘটনার ১৬ দিন পর, রোববার, হাতিরঝিল থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে, দক্ষিণখান থানা পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করে, যাদের মধ্যে একজন রবিন এবং অন্যজন রাব্বি মৃধা।
গ্রেফতারের পর তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তারা হত্যার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। রবিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে গিয়ে জানান, তারা কিশোরীটিকে ‘ফাঁদে ফেলে’ মহাখালীর একটি বাসায় নিয়ে যায় এবং সেখানেই তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। কিশোরী অচেতন হয়ে পড়লে তারা মলে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং মৃতদেহ বস্তাবন্দি করে সংগঠিতভাবে হাতিরঝিলে ফেলে দেয়।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাইফুর রহমান মির্জা জানান, কিশোরীটি ১৬ জানুয়ারি তার বাবা-মায়ের কাছে কেনাকাটা করার কথা বলে বাড়ির বাইরে যায়, কিন্তু তার আর ফিরে আসা হয়নি। পরে ১৯ জানুয়ারি তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ২৭ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। তদন্তের সময় কিশোরীর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রবিনকে ৩০ জানুয়ারি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। রবিনের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে রাব্বি মৃধার হদিস পাওয়া যায় এবং পরে তাদের দুইজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।
অভিযুক্ত দুই যুবক পুলিশের কাছে জানিয়েছেন যে, তারা একটি পরিকল্পনা তৈরি করে কিশোরীর বিরুদ্ধে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পর, দক্ষিণখান থানার পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করে এবং রবিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদঘাটন করে।
কিশোরীর বাবা বলেছেন, “আমার মেয়েটি স্কুলে যেত, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। আজ সে হত্যার শিকার হয়েছে। যারা আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।” ময়নাতদন্ত শেষে কিশোরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বেলা ১১টায় মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।
২৪৯ বার পড়া হয়েছে