সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের সামনে কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতা

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল। প্রতিনিধি পরিষদের জাতীয় ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ১৯৭৬ সালের পর কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো দলের এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধান বলে প্রাথমিক হিসাব উঠে এসেছে। এই ফলের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ভোটারদের বারবার নিজের নাম ব্যালটে রয়েছে—এমনটা ধরে নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ৪৭ বার তিনি এ ধরনের বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, রিপাবলিকানদের বিপরীতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের জাতীয় ভোটে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট। এমন পরাজয়ের আশঙ্কা অবশ্য হোয়াইট হাউস আগে থেকেই বিবেচনায় রেখেছিল। গত এপ্রিল থেকেই কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর কীভাবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নীতিগত সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়া যায় এবং সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করছিলেন ট্রাম্পের সহযোগীরা।

নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্যালটে তাঁর নাম থাকলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো। একদিকে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন, অন্যদিকে তাদের পাস করা বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে।

আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে বাজেট, তদন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।

ক্ষমতা ও তদন্তের চ্যালেঞ্জ

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ট্রাম্পের জন্য আইন প্রণয়নের পথ কঠিন হতে পারে। তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ এবং ভিসার শর্ত আরও কঠোর করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তাঁর রয়েছে।

বাজেট অনুমোদন ও বড় ধরনের আইন পাসের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কংগ্রেসের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁদের রয়েছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেও প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয় হলেও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে।

২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ

নির্বাচনী বিপর্যয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরির বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে। ভ্যান্সের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন।

আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা ভোটারদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলে তাদেরও রাজনৈতিক চাপে পড়তে হতে পারে।

নির্বাচনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও পড়তে পারে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখাতে পারে। একইভাবে চীনও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্বলতাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের ক্ষমতার অবসান ঘটাচ্ছে না; তবে তাঁর প্রশাসনের বাকি দুই বছর যে আগের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিক চাপ ও বিরোধিতার মধ্য দিয়ে কাটতে পারে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০