সর্বশেষ

সারাদেশ

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে লালমনিরহাটের ১০০ নারী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার ১০০ নারী। তাঁদের হাতে একটি করে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ঘরে বসে আয় ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করতে পারবেন তাঁরা।

প্রশিক্ষণ শেষে এবার নিজেরাই কাজ করে আয় করতে পারবেন লালমনিরহাটের ১০০ নারী। বসুন্ধরা শুভসংঘের ‘অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করা’ কর্মসূচির আওতায় তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করার জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়।

গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অনেক সুবিধাভোগী নারী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের কাছে সেলাই মেশিন শুধু উপহার নয়, বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সম্ভাবনা।

সেলাই মেশিন পাওয়া কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার গৃহবধূ সাজেদা বেগম বলেন, এই সহায়তায় তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতে পারবেন তিনি। সেই আয় দিয়ে সংসারে অবদান রাখার পাশাপাশি তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনায় সহযোগিতা করতে চান।

জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, লালমনিরহাট শুভসংঘের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান ও সুনীল কুমার সূত্রধর, সভাপতি জামাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির উপদেষ্টা তন্ময় আহমেদ নয়ন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, একসঙ্গে ১০০ নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেশব্যাপী এ ধরনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ সরকারি কার্যক্রমকেও এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। লালমনিরহাটের ইতিহাসে একসঙ্গে এতগুলো সেলাই মেশিন বিতরণের ঘটনা বিরল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে বসুন্ধরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসার দাবিদার। প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর বিভিন্নভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, লালমনিরহাটে দ্বিতীয় দফায় আরও ১০০ নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হলো। এ উদ্যোগ তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে। অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারা তিন হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বসুন্ধরা শুভসংঘের পাঠাগার রয়েছে। সংগঠনটি ও বসুন্ধরা গ্রুপ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন পাওয়ার মাধ্যমে নারীরা নিজেরা আয় করার পাশাপাশি অন্য নারীদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবেন। মনোবল নিয়ে নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেলাই মেশিন পাওয়া আদিতমারী উপজেলার তিস্তাতীরবর্তী মহিষখোচা এলাকার হিমু আক্তারের জন্য এই সহায়তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের অভাবে তাঁর কলেজের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিনের মাধ্যমে এখন অন্যের পোশাক তৈরি করে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

হিমু আক্তার বলেন, সেলাইয়ের কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। এ উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আরেক সুবিধাভোগী শিউলী রানী জানান, অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়। নিজের আয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও এত দিন সুযোগ ছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসারের হাল ধরার জন্য কিছু একটা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেলাই মেশিন পেয়ে এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাড়িতে বসেই উপার্জন করতে পারবেন তাঁরা। এতে পরিবারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহনেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০