সর্বশেষ

জাতীয়

জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, আলোচনায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটি জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সোয়া ৬টা) তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইট নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওতে বাংলাদেশের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি জাপানের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

সফরসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরের অংশ হিসেবে চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু শহরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নাগোয়ায় ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, বর্তমানে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি এ সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতেও পৃথক চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।

দুই দেশের আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের বিষয়গুলোও স্থান পেতে পারে।

গত এপ্রিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবারের সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠকে এশিয়াজুড়ে জ্বালানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বে নেওয়া একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল।

সফরকে সামনে রেখে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ১২টি অগ্রাধিকার খাতে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর কিছু অংশ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবহন ও নগর সংযোগ খাতে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়িসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার এবং উৎপাদন শিল্প, অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি ও মোটরগাড়ি খাতে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে ৯৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, নীল অর্থনীতি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতের জন্য আরও ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানের সহায়তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এবারের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০