সর্বশেষ

সারাদেশ

ফমেকে আবারও অভিযান: চিকিৎসাযন্ত্র কেনায় বড় অনিয়মের প্রমাণ

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাযন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে ক্যানসার চিকিৎসার লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর এখনো বাক্সবন্দী, আর স্থাপনের নয় বছর পরও চালু হয়নি হৃদরোগ চিকিৎসার ক্যাথল্যাব। এ ছাড়া চিকিৎসাসামগ্রী কেনা, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জমা এবং জনবল নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিনের অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ।

সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার রাত আটটায় শেষ হয়। মো. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে দুদকের আট সদস্যের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

দুদক সূত্র জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রে রোগী পাঠানো, আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ এবং কেনাকাটাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিটের জন্য প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর কেনা হয়। তবে যন্ত্রটি এখনো বাক্সবন্দী অবস্থায় রয়েছে। একই অর্থবছরে হৃদরোগ বিভাগের জন্য ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও সেটি এখনো চালু করা হয়নি।

দুদকের অভিযোগ, যন্ত্র দুটি চালু না করেই সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করেও রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর কেনা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাথল্যাব চালু না হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সব নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও তথ্যের অসংগতি পেয়েছে দুদক। অভিযানে ফেব্রিকস নামের একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে হেক্সাটন নামের একটি ওষুধের বোতল পাওয়া গেছে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি। দুদক কর্মকর্তা এ ধরনের গরমিলকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন।

হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার বিষয়টিও অনুসন্ধান করেছে দুদক। কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কার্যাদেশে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব ফিল্ম সরবরাহ করেনি। এরপরও অন্যান্য সামগ্রীর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক।

হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া আদায় ও সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত এক মাসে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ কোনো অর্থ সরকারি হিসাবে জমা হয়নি।

হাসপাতালটিতে পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে দুটি নষ্ট। বাকি তিনটি সচল থাকলেও সেগুলোর ভাড়ার টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে দুদক। এ ঘটনায় অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এ ছাড়া হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখবে দুদক।

সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রতিটি রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছি। এসব নথি বিশ্লেষণ করে দায় নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান কমিশনার বরাবর পাঠানো হবে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, ‘দুদক আমাদের কাছে যা যা চেয়েছে, সব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। হাসপাতালের ওই দুটি যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে।’

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০