জামালপুরে স্কুলের পাশে ২৫ দিন ধরে গ্যাস লিকেজ, ঝুঁকিতে ২শ' শিক্ষার্থী
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুর পৌরসভার মুসলিমাবাদ এলাকায় সড়ক সংস্কারের সময় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ফেটে প্রায় ২৫ দিন ধরে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। সড়কের পাশেই রয়েছে মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস লিকেজ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা শেষ করার আশা করা হচ্ছে।
জামালপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকায় সড়ক সংস্কারের সময় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত প্রায় ২৫ দিন ধরে ওই পাইপলাইন থেকে অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সড়কের পাশের মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে জামালপুর পৌরশহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকায় পরিচর্যা ক্লিনিক থেকে মুসলিমাবাদ জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তবে কাজের ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী ও এলাকাবাসী।
গত মাসের শেষ দিকে সড়ক সমান করার জন্য ভারী রোলার মেশিন চালানো হয়। এ সময় রোলারের চাপে সড়কের নিচে থাকা তিতাস গ্যাসের প্রধান সংযোগ পাইপলাইনের দুটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকেই পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ২৫ দিন পার হলেও পাইপলাইনের ফাটল মেরামতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। খোলা জায়গায় অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় পুরো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অসাবধানতাবশত কেউ জ্বলন্ত দেশলাই বা সিগারেটের আগুন ফেললে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গ্যাস লিকেজের স্থানটির একেবারেই পাশে রয়েছে মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০০ শিশু পড়াশোনা করে। গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে শিশুদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারহান আহমেদ বাদল বলেন, সড়কের মাটি সমান করার সময় রোলারের চাপে নিচে থাকা গ্যাসের পাইপ ফেটে যায়। এরপর থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। প্রায় ২৫ দিন পার হলেও পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়নি। এ ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
আঙ্গুর নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকার মানুষ খুব আতঙ্কে আছেন। এই সড়ক দিয়ে অনেকে সিগারেট খেতে খেতে চলাচল করেন। সিগারেটের আগুন থেকেও যেকোনো সময় আগুন লাগতে পারে। তাঁর দাবি, পাইপলাইন দিয়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপও কমে গেছে। দ্রুত পাইপলাইন মেরামতের দাবি জানান তিনি।
নিরব হোসেন (১১) নামের এক শিক্ষার্থী বলে, তারা এই সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এবং বিকেলে সেখানে খেলাধুলা করে। গ্যাসের কারণে সেখানে একধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে গ্যাসের কারণে তার শরীরে চুলকানিও হয় বলে জানায় সে।
সড়ক সংস্কারের সময় গ্যাসের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সাংবাদিকের কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জামালপুরের ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, পাইপলাইন ফেটে যাওয়া স্থানে পানি জমে থাকায় এত দিন মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে