জামালপুরের মাদারগঞ্জে আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি বাপেক্সের
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র ‘জামালপুর-১’-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর এবার আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপ দুটির স্থান নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। এখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেতে পারে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নতুন দুটি গ্যাসকূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে দ্রুত খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুত যাচাইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলায় তিনটি কৌশলগত স্থানে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের। এর মধ্যে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে ‘জামালপুর-১’ কূপে ইতিমধ্যে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকি দুটি কূপ খননের জন্য গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থান দুটিতে মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়েছে।
বাপেক্সের পরিকল্পনা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ জানান, নতুন কূপ দুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জামালপুর-২’ ও ‘জামালপুর নর্থ-১’। প্রকল্প দুটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, নতুন কূপ দুটির একটিতে বিদ্যমান গ্যাসের মজুত ও উৎপাদনক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে। অন্যটিতে গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে। প্রতিটি কূপ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর-১ কূপে গ্যাসের মোট মজুত প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭২০ কোটি ঘনফুট। কূপটি থেকে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এ হারে প্রায় পাঁচ বছর গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাপেক্সের জামালপুর-১ কূপের ফিল্ড ইনচার্জ বাইজিদ হোসেন জানান, এ কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে সার কারখানার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। সেখানে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন স্থাপনে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
জামালপুর-১ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপটি খনন করে বাপেক্স। ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় তিনটি স্তরে ড্রিল স্টেম টেস্টের মাধ্যমে কূপ খননের কাজ শেষ হয়। একই বছরের ৩১ মে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কূপটির ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৪ মিটার গভীরতায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ১ হাজার ১২৪ পিএসআই চাপে কূপটি থেকে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব।
বাপেক্সের হিসাব অনুযায়ী, এ গ্যাসের আর্থিক মূল্য সংস্থাটির হিসাবে প্রায় ৮২ কোটি টাকা। ভোক্তাপর্যায়ে এর মূল্য প্রায় ৪৬৮ কোটি টাকা। আর সমপরিমাণ গ্যাস তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে আমদানি করতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
জামালপুর-১ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নতুন দুটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি, মজুত ও উত্তোলনযোগ্যতা যাচাইয়ের পর তিনটি কূপ থেকেই গ্যাস উত্তোলন এবং জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন কূপ দুটি খননের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্তমানে সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে।
১৯১ বার পড়া হয়েছে