মেহেন্দিগঞ্জে সার ডিলারশিপ পেতে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহারের অভিযোগ
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নে মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের নামে সার ও কীটনাশকের ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি এবং তথ্য গোপন করে সার ডিলারশিপের জন্য মনোনীত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে। তাঁর স্বামী ও নিজের নামে ভোলা জেলায় আগে থেকেই দুটি সার বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বিউটি বেগমের নামে জমা দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর আলিমাবাদ ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের নামে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি এবং আগের ব্যবসায়িক তথ্য গোপন করে ডিলারশিপ পাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একই পরিবারের কোনো সদস্যের ডিলারশিপ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া খুচরা বিক্রেতার পরিচয়পত্র থাকলে ওই পরিবারের অন্য সদস্য ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে বা বিক্রেতা হতে পারবেন না। পরিবারের সদস্য হিসেবে পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, পুত্র, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্র ও তাঁর স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা এবং একই খানা বা সংসারে একসঙ্গে খাদ্য গ্রহণকারী নির্ভরশীল ভাই-বোন এ বিধির আওতাভুক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, বিউটি বেগম ও তাঁর স্বামীর নামে ভোলা জেলায় আগে থেকেই সার বিক্রির দুটি লাইসেন্স রয়েছে। এসব তথ্য গোপন করে ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নে নতুন করে সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন তিনি।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বিউটি বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আলম খন্দকারের নামে ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জনতা বাজারে সার বিক্রির খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারশিপ রয়েছে। এ ছাড়া ভোলার কর্নরোকপুর মোল্লা বাজারে মেসার্স জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স নামে আরেকটি সার ডিলারশিপ পরিচালনা করেন বিউটি বেগম নিজেই। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী তিনি এবং এর লাইসেন্স নম্বর ৬১৭ বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলিমাবাদ ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিউটি বেগম ভোলার ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নে স্থানান্তর করেন। তবে তাঁর পিতা-মাতা, স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের স্থায়ী ঠিকানা ভোলায়। তাঁরা সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সার ডিলার নিয়োগের সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি অধিদপ্তর ১৪ আগস্ট সরকারি বিধি অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। অন্যদিকে বিউটি বেগমের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করা হয় ২০ আগস্ট। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের পর ২২ আগস্টের একটি ট্রেড লাইসেন্স আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালের একটি নাগরিক সনদও জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ উঠেছে, আলিমাবাদ ইউনিয়নে সার ডিলারশিপের জন্য একাধিক আবেদনকারী থাকলেও অজ্ঞাত কারণে অন্য জেলার একজন আবেদনকারীকে দ্রুত ভোটার ঠিকানা পরিবর্তনের পর ডিলারশিপের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এত অল্প সময়ে ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিউটি বেগম স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজের শ্যালিকা বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সবুজ নিজেই তাঁর নামে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছেন এবং সার ডিলারশিপটি পরিচালনা করবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিউটি বেগমের দুলাভাই ও চারিত্রিক সনদ প্রদানকারী ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, “এটা আমার নিজের, আমিই করেছি।”
১০ নম্বর আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নম্বরে ইস্যু করা ট্রেড লাইসেন্সটি বিউটি বেগমের নামে নয়, অন্য একজনের নামে রয়েছে। বিউটি বেগমের নামে জমা দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সটি অবৈধভাবে তৈরি করা ভুয়া লাইসেন্স। তাঁর নামে ইস্যু করা ট্রেড লাইসেন্সের কোনো নথি ইউনিয়ন পরিষদে নেই বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর বসু বলেন, কাগজপত্র যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী বিউটি বেগমের নাম সার ডিলারশিপের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর জমা দেওয়া কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে