আমতলীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান মামলায় ৪ শিক্ষার্থী কারাগারে
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিজাউল কবির বাদী হয়ে আমতলী থানায় মামলাটি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে আমতলী উপজেলার মহিষকাটা এলাকার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এবং আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্য অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় জালাল উদ্দীন ফকির ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী এবং নবীন শিক্ষার্থী সুজা। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকির এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম অভিযোগে উঠে এসেছে।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, চার শিক্ষার্থীকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
আসিফের পরিবারের অভিযোগ, সেখানে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে চার শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকার ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলেজের সামনে জড়ো হন। এ সময় কলেজের ফটক ও সামনের সেতু ভাঙচুর করা হয় এবং টায়ারে আগুন দেওয়া হয়। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
বাদী রিজাউল কবির অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে বিএনপির কর্মী বলে গালাগাল করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার কথা বলে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ৩২ জনের মধ্যে বরগুনা জেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আল আমিনও রয়েছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে, মামলার অধিকাংশ আসামি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের আসামি করেই মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজে ভাঙচুর ও মারধরের মামলা এবং চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পাল্টা অভিযোগ ঘিরে আমতলীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় চার আসামিকে আটক করে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে