সর্বশেষ

জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিসংকট সমাধানে ১৫০ গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিসংকট সমাধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কূপ খননের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিছু কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও শুরু হয়েছে। নতুন কূপ খননের পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পেট্রোবাংলার সক্ষমতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং সরবরাহ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা গেলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশে কর-সুবিধা, প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদের ঋণের মতো সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি অফিস-আদালতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অব্যবহৃত সরকারি ও অকৃষি জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশের বিদ্যমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিসংকট সমাধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং নতুন গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০