বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস
জালে আটকে ১৯ বছরে ২৫০ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় গত ১৯ বছরে অন্তত ২৫০টি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রাণীদের বেশির ভাগই ডলফিন ও তিমি। গবেষণা ও জরিপের তথ্য বলছে, এসব প্রাণীর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ভূতুড়ে জাল ও ফাঁস জালে আটকে যাওয়া।
আজ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস। এদিন দেশের বন্য প্রাণীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু এবং দেশের স্থলভাগে বিভিন্ন বন্য প্রাণীর বিলুপ্তির তথ্য উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির গবেষণা এবং বন বিভাগ ও সংগঠনটির যৌথভাবে পরিচালিত জাতীয় বেজলাইন জরিপে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেশের ৪৫টি নদীর মোট চার হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ এলাকায় ১০৮টি শুশুক ও ডলফিন মারা গেছে।
২০২০ ও ২০২১ সালে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছয়টি বিশালাকার তিমি এবং বিভিন্ন প্রজাতির ৬০টি ডলফিন। আর ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৭৬টি সামুদ্রিক প্রাণী।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর ৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী ভূতুড়ে জাল ও ফাঁস জাল। এসব জালে আটকা পড়লে ডলফিন, তিমি ও অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী পানির ওপরে উঠতে পারে না। ফলে শ্বাস নিতে না পেরে পানির মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের নদী ও উপকূলীয় অববাহিকায় প্রায় দুই হাজার ৩০৭টি গাঙ্গেয় ডলফিন টিকে আছে। তবে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় প্রাণীর মৃত্যু এবং তাদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসায় উদ্বেগ রয়েছে।
শুধু সামুদ্রিক প্রাণী নয়, দেশের স্থলভাগের বন্য প্রাণীর অবস্থাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে গত দেড় দশকে ১৮টি বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। এর আগের দশকে বিলুপ্ত হয়েছিল ১৩টি। অর্থাৎ গত ২৫ বছরে দেশ থেকে ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য জানায়।
আইইউসিএনের তালিকা অনুযায়ী, বিলুপ্ত প্রাণীর মধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি, ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং এক প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। এ ছাড়া বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৯০ প্রজাতির প্রাণী।
দেশের ৩৯০ প্রজাতির বন্য প্রাণী কোনো না কোনোভাবে বিপন্ন। এর মধ্যে ৫৬ প্রজাতি মহাবিপন্ন, ১৮১ প্রজাতি বিপন্ন এবং ১৫৩ প্রজাতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী গবেষক অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, বাংলাদেশে বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কারণ সবচেয়ে বেশি। প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও খাবারের সংকটে পড়ছে বন্য প্রাণী। মানুষের হস্তক্ষেপ বাড়ায় বন, জলাশয় ও ঝোপঝাড়ের মতো প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে তারা।
এদিকে ২০১৫ সালের পর এক দশক পেরিয়ে বন্য প্রাণীর বর্তমান পরিস্থিতি, আবাসস্থল ও সংখ্যার পরিবর্তন জানতে আইইউসিএন বাংলাদেশ ও সরকার যৌথভাবে ‘লাল তালিকা’ হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপন্ন সামুদ্রিক মাছের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে