জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ৫৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী হামিদুল শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পুরো নাম হামিদুল শেখ। তিনি পাঁচবিবি উপজেলার শন্তাদিগর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন শেখের ছেলে। জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আব্দুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই সাজা ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ দুপুরে শন্তাদিগর গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী তার নিজ বাড়ির উঠানে ঝাড়ু দিচ্ছিল। সে সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী চাচা হামিদুল শেখ জোরপূর্বক তার মুখ ওড়না দিয়ে চেপে ধরে ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সে একাধিকবার মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।
ঘটনার প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শারীরিক পরিবর্তনের পর পরিবার জানতে পারে যে সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পাঁচবিবি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মাসুম ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, উপযুক্ত সাক্ষী এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি উপস্থাপন শেষে আদালত আজ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
১০৭ বার পড়া হয়েছে