কুষ্টিয়ায় বিড়ালের কামড়ে জলাতঙ্কের টিকা নিলেন ১২ হাজারেরও বেশি
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পোষা বিড়াল ও কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালেই সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন, যার সিংহভাগই বিড়ালের আক্রমণের শিকার। চিকিৎসকেরা এই পরিস্থিতিতে গৃহপালিত পশু পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলায় পোষা প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনার হারও বাড়ছে। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১২ হাজার ৬৮১ জন রোগী চিকিৎসা ও টিকা সেবা নিয়েছেন। প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার ৫৮৫ জন মানুষ এখানে সেবা নিতে এসেছেন, যার সিংহভাগই বিড়ালের খামচির শিকার।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই এই গ্রাফটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জানুয়ারি মাসে পশুর কামড় বা আঁচড় খেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ১ হাজার ৭১২ জন। এরপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রোগীর সংখ্যা সামান্য কমলেও, এপ্রিল থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করে। আগস্টে এসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৮১ জনে পৌঁছায়, যা ছিল চলতি বছরের একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।
হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই হিসাবটি শুধুমাত্র সদর হাসপাতালের তথ্য নির্দেশ করে। জেলার অন্য পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হিসাব যুক্ত হলে এই সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। এছাড়াও বহু মানুষ সরকারি হাসপাতালে না এসে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ফার্মেসি থেকে টিকা কিনে নিচ্ছেন।
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনের চিত্রও বিড়ালের উপদ্রব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সময়ে হাসপাতালে আসা ১ হাজার ১৫০ জন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ২৬ জনই এসেছেন বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের চিকিৎসার জন্য। অবশিষ্টদের মধ্যে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ১২০ জন এবং সামান্য কিছু রোগী অন্য বন্যপ্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই গৃহপালিত বা ঘরের পোষা বিড়ালের আক্রমণের শিকার। এমনকি একই ব্যক্তি একাধিকবার আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পোষা বিড়ালের টিকাদান সম্পন্ন করা এবং তাদের ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ রাখা জরুরি বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
১১৮ বার পড়া হয়েছে