টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে তালাক দেওয়ার জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এক স্বামী। স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুনের পর ঘাতক স্বামী নিজের গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শাশুড়িও, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে বুধবার রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম নিলুফা আক্তার মিলু (৪০)। অভিযুক্ত স্বামী হযরত আলী একই উপজেলার দহর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় নিহত নিলুফার মা চেনবানু গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে হযরত আলীর সঙ্গে নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। দীর্ঘদিন এই অশান্তি সহ্য করার পর, অবশেষে এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে ডিভোর্স বা তালাক দেন নিলুফা। এই তালাকের খবর পেয়েই প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হযরত আলী।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হানা দেন হযরত। সেখানে নিলুফাকে দেখামাত্রই তিনি এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মারা যান নিলুফা। এ সময় মেয়ের চিৎকারে মা চেনবানু বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
স্ত্রীকে হত্যা এবং শাশুড়িকে আহত করার পর ঘাতক হযরত নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেট ও গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হযরত আলী ও তাঁর শাশুড়ি চেনবানুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী বর্তমানে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১১২ বার পড়া হয়েছে