জাতিসংঘের একই মঞ্চে দুই প্রেসিডেন্টের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ ও ‘অকেজো’ সংস্থা হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বিশ্বনিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকির জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, তেহরান কূটনীতি ও আলোচনায় প্রস্তুত, তবে শক্তি প্রয়োগের ভাষা মেনে নেবে না।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বুধবার ভাষণ দেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। বক্তব্যে তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। মিলেইর অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
মিলেই বলেন, জাতিসংঘের ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ আমলাতান্ত্রিক কাঠামো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একদল মানুষ নিজেদের স্বার্থে সংস্থাটিকে ব্যবহার করছে এবং এতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, আর্জেন্টিনার ভাষায় লাস মালভিনাস, ইস্যুতেও জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করেন মিলেই। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং সমুদ্র এলাকায় তেল উত্তোলন ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বড় দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, একই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক বক্তব্যের জবাব দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবারের ভাষণে ট্রাম্প সংঘাত নিরসনের আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও তোলেন এবং অন্য দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের এক দিন পর জাতিসংঘের একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। তবে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকির ভাষা তারা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও হেয় করার চেষ্টা ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরও বাড়াবে এবং তারা কারও কাছে মাথা নত করবে না।
ভাষণের সময় পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের জবাবে বলেন, ইরান সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বক্তব্য শুরু করার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদল পরিষদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এর আগের দিন ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধিরাও একইভাবে পরিষদ কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে