কাগজে ডাক্তার, বাস্তবে শূন্য: সাটুরিয়ায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসাসেবা বিপর্যস্ত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চরম ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। কাগজে-কলমে ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে মেডিকেল অফিসারদের অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের এখন বাধ্য হয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টদের কাছ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া, চরতিল্লি, দ্বিমুখা, তিল্লি, দরগ্রাম ও বালিয়াটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট এখন চরমে। ধানকোড়া, চরতিল্লি ও দ্বিমুখা কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসাররা মূল কর্মস্থলে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে তিল্লি ও দরগ্রামের চিকিৎসকেরা ভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে রয়েছেন এবং বালিয়াটি কেন্দ্রের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রামীণ এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি খাতায় ডাক্তারদের উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে তারা সেখানে যাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ৯ থেকে ১০ বছর ধরে অনেক কেন্দ্রে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক পা রাখেননি।
চিকিৎসকদের এই অনুপস্থিতির সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র রোগীদের নিম্নমানের ওষুধ কিনতে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রোগীদের একাংশের দাবি, এমবিবিএস চিকিৎসকেরা যাতে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত না আসেন, সেজন্যও একটি চক্র পর্দার আড়ালে কাজ করছে। কারণ বড় ডাক্তার থাকলে উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত চেম্বার ও ওষুধ কোম্পানির ব্যবসায় ভাটা পড়ার আশঙ্কা থাকে।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো জরাজীর্ণ হওয়ায় অনেক চিকিৎসক সেখানে থাকতে চান না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার এটিও একটি অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবা মজবুত করা গেলে উপজেলা বা জেলা হাসপাতালের ওপর চাপ অনেক কমে যাবে। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
১০৯ বার পড়া হয়েছে