সর্বশেষ

জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

মো. রহমত আলী রিজভী
মো. রহমত আলী রিজভী

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরিসহ পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। শরণার্থী শিবিরগুলোয় তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দিতে প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

তবে শিবিরগুলো দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উপযোগী নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও সমাধান খোঁজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো হলো—

প্রথমত, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের ভেতরে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা পান।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্ত ব্যবস্থাগুলোকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

পঞ্চমত, মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ওপরও চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে আনা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রয়োজন বাড়লেও মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না।

তারেক রহমান বলেন, মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। তবে শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকাল এই দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের ওপরও রাখা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ ও জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। ১৯৭৮ সাল ও পরবর্তী সময়ে ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ কয়েক দফায় রোহিঙ্গাদের বড় ধরনের আগমন প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও পরবর্তীকালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর সংকট আরও তীব্র হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। প্রতিবছর শিবিরগুলোয় হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে, ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মও যুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রাখতে চায় না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সেটিই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০