সর্বশেষ

সারাদেশ

শরীয়তপুরে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা

মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর
মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান আহাদের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের একজন নেতাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে তদন্ত করেছেন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা।

অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনজনের নাম প্রস্তাব করে পাঠান। তালিকায় প্রথমে জিয়াউর রহমান আহাদ, দ্বিতীয় স্থানে তাঁর ভাই আশিকুর রহমান এবং তৃতীয় স্থানে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মামুন মিয়ার নাম দেওয়া হয়।

পরে গত ১৪ জুলাই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত আদেশে জিয়াউর রহমান আহাদকে সামন্তসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একজন ব্যক্তি দুইটির বেশি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারেন না। কিন্তু জিয়াউর রহমান আহাদ বর্তমানে তিনটি কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী মামুন মিয়া। বিষয়টি নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে মামুন মিয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক মো. আরিফুল হক। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তথ্য নেন।

মামুন মিয়া অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের একজন নেতাকে কীভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হলো, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমান আহাদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন। তাঁকে সভাপতি করার ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা দরকার।

তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শিক্ষা বোর্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক মো. আরিফুল হক বলেন, ‘মামুন মিয়া নামে একজন অভিযোগ করেছেন যে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান নামে একজনকে এই বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বোর্ডে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত করতে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘সভাপতি মনোনয়নের জন্য তিনজনের নাম দেওয়া হয়েছিল। সেখানে জিয়াউর রহমানের নাম প্রথমে এবং অভিযোগকারীর নাম তৃতীয় অবস্থানে ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা বিদ্যালয়ে এসে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, সভাপতি মনোনয়নের তালিকায় জিয়াউর রহমান আহাদের নাম প্রথমে রাখার কারণ জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নাম এক নম্বরে দিয়েছি বিএনপি নেতাদের কথায়। আপনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমান আহাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি একটি জরুরি সভায় রয়েছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’

১৯৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০