সাটুরিয়ায় জিংক ও বোরনে ভেজাল! ৭ সার কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভেজাল সার বিক্রি করে কৃষকদের প্রতারিত করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কৃষি বিভাগের ল্যাব পরীক্ষায় ৭টি নামকরা কোম্পানির সারে ভেজালের প্রমাণ মেলায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাটুরিয়ায় ভেজাল সার বিক্রি বন্ধে ইতিমধ্যে বাজার থেকে ক্ষতিকর এসব সার প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
মানিকগঞ্জের কৃষিপ্রধান উপজেলা সাটুরিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন স্থানীয় চাষিরা। কৃষকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দোকান থেকে ১৬টি প্যাকেটজাত সারের নমুনা সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এই নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হলে সাতটি নামিদামি কোম্পানির সারে চরম ভেজালের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
সরকারি ল্যাব পরীক্ষায় ক্ষতিকর ও মানহীন প্রমাণিত হওয়া সারগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাবিলন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের 'ব্যাবিলন বোরন', ব্যাবিলন এগ্রিসায়েন্সের 'ব্যাবিলন জিংক', নিড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের 'নিড সলুবোর', এগ্রো মাইন লিমিটেডের 'সলিড জিংক মনো', হোসেন এন্টারপ্রাইজের 'বিজয় জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট', ভেলকো এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের 'মনো জিংক' এবং গ্রীন বাংলা এগ্রোভেটের 'জিবি জিংক'। কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জিংক ও বোরনের কার্যকারিতা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম পাওয়ায় এগুলোকে ভেজাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাটুরিয়ার প্রায় ৩৭ হাজার প্রান্তিক কৃষক সরাসরি এই ভেজাল সারের কারণে প্রতারিত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, কিছু অসাধু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ব্লক সুপারভাইজার এবং স্থানীয় ডিলারদের যোগসাজশে চকচকে মোড়কে মোড়ানো এসব নিম্নমানের সার কৃষকদের গছিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কৃষকদের উৎসাহিত করার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ভেজাল সার মজুত বা কেনাবেচা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসুম জানিয়েছেন, ল্যাব টেস্টে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত সাতটি কোম্পানিকে জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে বাজার থেকে তাদের সব পণ্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাটুরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম এ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কৃষকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা সহ্য করা হবে না। এই ভেজাল সার চক্রের সঙ্গে জড়িত ডিলার কিংবা কর্মকর্তা যেই হোক না কেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে