কলাপাড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে হামলা, আহত ৪
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগরে জাল ফেলার জন্য দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় একটি মাছধরা ট্রলারে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে চারজন জেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই বর্বর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। আহত জেলেরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর (২৭), মো. মনির (২৩), ওমর ফারুক (৪৫) ও মস্তফা (৪২)। বর্তমানে তারা কলাপাড়া হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের সকলের বাড়ি ধুলাসার ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে জাল ফেলার অনুমতি দেওয়ার নামে ওমর ফারুকের কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী শাহআলম চৌকিদার। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সকালে জেলেরা ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহআলমের ছেলে ইলিয়াস প্রথমে তাদের জাল ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে শাহআলম চৌকিদার, তার ছেলে ইলিয়াস ও রিয়াজসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র অবস্থায় আরেকটি ট্রলারে এসে জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা ও লাঠিসোঁটা দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে চার জেলেকে রক্তাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহআলম চৌকিদার চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সাগরে জাল ফেলা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে মাত্র। চাঁদাবাজির সম্পূর্ণ অভিযোগটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে জেলেদের মারধরের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৫৪ বার পড়া হয়েছে