সর্বশেষ

জাতীয়

আইনের ফাঁকে অপরাধীরা বারবার বেরিয়ে আসে: আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৪৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, একাধিকবার আইনের আওতায় আনার পরও এসব অপরাধী জামিন বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ—পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইজিপি।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। অনেক মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পরে তারা আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা আকর্ষণীয় নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে এনার্জি ট্যাবলেট বা অন্য নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একজন সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে শুধু তার নিজের জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পুরো পরিবারকেই এর খেসারত দিতে হয়। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাদকের টাকা না দেওয়ায় সন্তানের হাতে বাবার মারধরের মতো ঘটনাও দেখেছেন বলে জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশকে জনবান্ধব ও জনগণমুখী হতে হবে। তবে পুলিশ কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হলে জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, পুলিশের কাজ হবে ‘পিপল ওরিয়েন্টেড’ বা জনগণকেন্দ্রিক।

পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, শুধু প্রচার বা লোক দেখানোর জন্য নয়, বাস্তব পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন।

সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন আইজিপি। তিনি বলেন, বিদেশে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই রাস্তা পারাপার ও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম শেখানো হয়। বাংলাদেশেও শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক। এটি শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, পুরো ঢাকা শহরে সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ।

তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রচারাভিযান ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। এর মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নগরবাসী যদি ঢাকাকে নিজের শহর মনে করে ভালোবাসে, তাহলে শহরের পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বদলাতে হলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজের ঘরের মতো শহরকেও পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন, তাহলে পরিবর্তন আসবে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সারা পৃথিবীতেই প্রকৃতি বিরূপ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এ জন্য গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যদি আবর্জনা না ফেলার এবং অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ঢাকার প্রতি নতুন প্রজন্মের মমত্ববোধ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তাঁর মতে, ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের পরিচয় করিয়ে দিলে শহরের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা বাড়বে।

নগর ব্যবস্থাপনায় পুলিশের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পুলিশকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। পুলিশ ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে কাজ করলে নগরকে আরও সুন্দর করা সম্ভব।

শিশু-কিশোরদের শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন স্থান ও ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছ রোপণ করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন