ত্রিশূলী-৩-এর সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেপালের ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কোনো শ্রমিক নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই নিশ্চিত হওয়ার পর ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ শেষ করা হয়েছে।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। দলের নেতৃত্ব দেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। এ সময় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে জানান, পুরো প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ কাদা ও মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও পাথরও জমে আছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়ে তল্লাশি চালান। তবে যেসব জায়গায় তাঁরা খুঁজেছেন, সেখানে কাদা ও মাটি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকারীরা জানান, আকস্মিক বন্যার পানির প্রবল চাপে সুড়ঙ্গের ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে। এ কারণে সুড়ঙ্গের ভেতরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ধস ও মাটির স্তূপ তৈরি হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট সকালে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ওই সময় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। এসব প্রকল্পের পাওয়ারহাউস মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে নির্মাণ করা হয়েছিল। বন্যায় প্রতিটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কাদা, মাটি ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ করা হচ্ছে।
বন্যার নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩-এর একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে আরও এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন।
উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছিল। এ কারণে উদ্ধারকারীরা নতুন করে তল্লাশি চালান। পরে এপিএফ ও নেপালি সেনার সদস্যরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে পুরো এলাকা পরীক্ষা করেন। তাঁদের তল্লাশিতে আর কোনো শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারের পর সঞ্জয় জানান, বন্যার পানি আসছে বুঝতে পেরে তিনি প্রথমে সুড়ঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে তাঁর নিজের বের হতে দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি আর সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পারেননি।
সঞ্জয় আরও জানান, নয় দিন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় তিনি মন্ত্র জপ ও প্রার্থনা করেছেন। এত দিন পর জীবিত অবস্থায় বের হতে পারবেন, এমনটা তিনি ভাবেননি।
শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে আকস্মিক বন্যায় ১ হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এখনো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে