জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক চায় ভারত: দীনেশ
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে আরও জনগণকেন্দ্রিক করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও জোরদার করার মাধ্যমে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে চায় ভারত।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং এই সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। সময় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে।
স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অনেকটা সরকারকেন্দ্রিক ছিল। তাঁর মতে, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কই হওয়া উচিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এসব নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারত সরকার আগ্রহী। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, রোহিঙ্গা সংকট ও পুনর্বাসন, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয় বাংলাদেশের স্পিকারকে। পাশাপাশি দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন ভারতের হাইকমিশনার।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর প্রশংসা করেন ভারতের হাইকমিশনার। লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই ভবনের স্থাপত্যের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সংসদীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় ও সফর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারতের পার্লামেন্টকে আধুনিক পার্লামেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদীর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন দুই দেশের সংসদীয় যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দুই দেশের সংসদীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতির সহযোগিতা বাড়ানো গেলে তা দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে