মৃত্যুর পর নয়, জীবিত থাকতেই ‘চল্লিশা’ করলেন দম্পতি
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মৃত্যুর পর স্বজনদের ‘চল্লিশা’ খাওয়ানোর প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে জীবিত থাকতেই অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘চল্লিশা’ ভোজের আয়োজন করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের এক দম্পতি। শুক্রবার উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে এ আয়োজনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্যতিক্রমী এক ‘চল্লিশা’ ভোজের আয়োজন করেছেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫)। মৃত্যুর পর নয়, জীবিত থাকতেই এলাকার অসহায়, নিম্নআয়ের মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিজেদের উদ্যোগে এ ভোজের আয়োজন করেন তাঁরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা আয়োজনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ খাবারে অংশ নেন।
অতিথিদের বসে খাওয়ার সুবিধার জন্য বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে সামিয়ানা টানানো হয়। পাশাপাশি চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জনের খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল।
ভোজের মেন্যুতে ছিল গরু ও খাসির মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। বিভিন্ন বয়সী মানুষ উৎসাহের সঙ্গে এ আয়োজনে অংশ নেন।
আয়োজক রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। নিজের জন্য জীবিত অবস্থায় ‘চল্লিশা’ আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর সন্তানরা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় ছিল। তাই জীবিত থাকতেই নিজের হাতে এ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার পাশাপাশি পরকালের সওয়াবের আশায় তিনি এ ভোজের আয়োজন করেছেন। জীবিত থাকতেই নিজের হাতে সবার মুখে ‘চল্লিশার’ খাবার তুলে দেওয়াই ছিল তাঁর ইচ্ছা।
রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, এ এলাকায় আগে এ ধরনের আয়োজন দেখা যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর প্রচলিত ‘চল্লিশা’র পরিবর্তে জীবিত অবস্থায় ভোজ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা রফিকুল ইসলাম আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। এরপর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে এবং আশপাশের এলাকাতেও আলোচনার জন্ম দেয়।
রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমি অধিগ্রহণের বাবদ পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে এ আয়োজনের খরচ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজনে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাকপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেয়ে-জামাই বাবলু মিয়া, শান্তা আক্তার (২৫) ও রানা মিয়া (১৭)।
জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য ‘চল্লিশা’ আয়োজনের এ ঘটনাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে জীবিত থাকতেই মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করায় বিষয়টি এলাকায় বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে