সর্বশেষ

সারাদেশ

পার্টস দেখিয়ে আনা ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ মোংলা বন্দরে

রেজা মাসুদ, মংলা
রেজা মাসুদ, মংলা

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ বা পার্টস আমদানির ঘোষণা দিয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে আস্ত চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কেটে নিয়ে আসার এক অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়েছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি থেকে পৌনে সাত কোটি টাকা মূল্যের এসব গাড়ি মাত্র ৯ লাখ টাকা আমদানি মূল্য দেখিয়ে খালাসের চেষ্টা করছিল ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) তৎপরতায় এই বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে এই বিলাসবহুল গাড়ির চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আমদানিকারক হিসেবে এবং খুলনার ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে এই আমদানির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাস্টমস নথিতে ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিন, বাম্পার, স্টিয়ারিং বা হেডলাইটের ঘোষণা দিয়ে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ধরে মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা শুল্ক-কর দিতে চেয়েছিল। অথচ জব্দ করা গাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তার চেয়েও বেশি। মূলত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিতেই এই অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

জব্দ হওয়া বিলাসবহুল গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ মডেলের একটি লেক্সাস এলএক্স৫৭০, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এছাড়া রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০আই এবং ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি টোয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট গাড়ি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও মোংলা সার্কেলের সহায়তায় চালানটির খালাস সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞ, বিআরটিএ প্রতিনিধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, গাড়িগুলোর ইলেকট্রিক ওয়্যারিং ও প্রয়োজনীয় সেন্সর অক্ষত রেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ৩-৪টি টুকরো করে আনা হয়েছে, যা সহজেই পুনরায় জোড়া দিয়ে আসল রূপ দেওয়া সম্ভব। কাস্টমস আইন অনুযায়ী এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

১৪৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন