শিবগঞ্জে নিখোঁজ রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রুমন আলী নামের এক যুবকের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই অটোরিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট ভোরে শিবগঞ্জ উপজেলার মোহনবাগ এলাকার বাসিন্দা রুমন আলী জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফিরে না আসায় তাঁর পালিত পিতা মো. একরামুল হক পরদিন শিবগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমার দত্ত মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ২৩ আগস্ট প্রথম সন্দেহভাজন ওয়াসিম ওরফে অসিমকে আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরেক সদস্য রফিকুল আলমকে আটক করা হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, নিহত রুমনের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি ৭০ হাজার টাকা নগদে উমর ফারুক নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উমর ফারুকের বাড়ি থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করাসহ তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ দল পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াসিম স্বীকার করেন যে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই রুমনকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে গত ২৬ আগস্ট বিকেলে পুটিমারী বিলের একটি আখখেত থেকে রুমনের পচনধরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর রুমনের পরিহিত পোশাক ও মোবাইল ফোন দেখে তাঁর স্ত্রী নাজমা সুলতানা লাশটি স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া, রক্তমাখা মাটি এবং আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে