সাতক্ষীরায় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে চিংড়ি ঘেরে হামলা
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক জমিতে গড়ে তোলা একটি চিংড়ি ঘেরে হামলা, ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষরা আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ঘেরের দখল নিতে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা ফারজানা কাদের অরিন এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে ভূমিদস্যু হিসেবে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেনের অশুভ তৎপরতা বন্ধ এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে অরিন জানান, দেবহাটা থানার বালিখা ও বিল শিমুলবাড়িয়া মৌজায় অবস্থিত ২৫ বিঘার ‘ধাপার ঘের’ সম্পত্তিটি মূলত তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। ২০০২ সালে তার পিতা ফজলুল কাদেরের মৃত্যুর পর থেকে তাদের পরিবারকে অসহায় পেয়ে শরিক শরিফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন গায়ের জোরে এই সম্পত্তি ভোগদখল করার চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ ১৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে তারা পৈতৃক সম্পত্তিতে ফিরে এসে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী জানান, শরিফুল ইসলামের মা তাহমিনা খাতুন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করলে বিষয়টি পরবর্তীতে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর প্রতিপক্ষ পুনরায় আবেদন করলে আদালত হাইকোর্টের ‘স্ট্রে অর্ডার’ বলবৎ থাকায় উক্ত মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। এ সত্ত্বেও তারা বেআইনিভাবে ঘের দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট সকালে শরিফুল ও আলমগীরের নেতৃত্বে একদল লাঠিয়াল বাহিনী ২৫ বিঘার ওই চিংড়ি ঘেরে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা ঘেরের পাহারাঘর ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা কর্মচারীদের মারধর করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নেয়। এছাড়া ঘেরে বিষ ঢেলে দিয়ে অন্য সব মাছ মেরে ফেলা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় শিমুলবাড়িয়া এলাকার আরেকটি ৭ বিঘার ঘেরেও একই পদ্ধতিতে লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে ফারজানা কাদের অরিন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
১২০ বার পড়া হয়েছে