সর্বশেষ

সারাদেশ

রংপুরে ৪ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে, ২ যুবকের দায় স্বীকার: পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৮:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রংপুর নগরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ওই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) নামের দুই যুবককে আটক করা হয়।

রোববার দুপুরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, চারজনকে হত্যার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই যুবক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে তাঁরা মাদক সেবন ও আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেন। পরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

পুলিশ জানায়, শব্দ পেয়ে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা বাইরে বের হলে তাঁকেও হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাঁদেরও হত্যা করা হয়। পরে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে দুই যুবক পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না এবং হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

শনিবার রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় তাঁর দোতলা বাড়ির ছাদে। স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় একটি খাটের নিচে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। শনিবার রাত নয়টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্বজনদের খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ সময় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আসবাব এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। শনিবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সব কটি ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত নয়টার দিকে তিনি স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। এরপর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে তাঁকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে।

গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন।

তাঁর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন