সর্বশেষ

জাতীয়

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: মামলার ২২ বছর

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সব আসামিই খালাস পেয়েছেন। ২০১৮ সালে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বাতিল করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সবাইকে খালাস দেন। পরে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। তবে এই মামলায় হামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। ওই সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন কয়েক শ নেতা-কর্মী। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেত্রী আইভি রহমানও ছিলেন।

ঘটনার পর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির পক্ষ থেকে প্রথম অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তাঁর ভাই তাজউদ্দিন, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২। পরে কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হওয়ায় এই মামলায় আসামির সংখ্যা কমে ৪৯ জনে দাঁড়ায়।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় দেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিএনপির নেতা তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত বলেন, মামলায় দুর্বল ও শোনা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছিল। কে গ্রেনেড ছুড়েছেন, সে বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যও পাওয়া যায়নি।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে মামলার তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ২১ আগস্টের হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে নতুন করে তদন্ত প্রয়োজন। এ জন্য মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছিল।

তবে হাইকোর্টের ওই পর্যবেক্ষণের সেই অংশ শেষ পর্যন্ত বহাল থাকেনি। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায়। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেন। ফলে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৪৯ আসামির খালাস বহাল থাকে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের কিছু অংশ সংশোধন ও প্রত্যাহার করা হয়।

এর ফলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামির সাজা বহাল নেই। তবে হামলার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্‌ঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদের বক্তব্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ আদালতে আসামিদের খালাস বহাল হলেও হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে রায়ে কোনো নির্দেশনা নেই। অন্যদিকে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা পরিচালনার ফলে শেষ পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করা কঠিন।

২১ আগস্টের হামলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সহিংস ঘটনা। দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য, হামলার পরিকল্পনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের প্রশ্নটি তাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

১৪৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন