নাসিরনগরে সালিশের নামে প্রহসন, কান ধরে ওঠবস
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আপন চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় সালিশে অভিযুক্তকে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করানো হয়। তবে এমন প্রহসনের বিচার মেনে নেয়নি ভুক্তভোগীর পরিবার। বাধ্য হয়ে বিচার পেতে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে এবং কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম জাহিদুল ইসলাম (২৪)। তিনি নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজম বাড়ির সফিল মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে ডেকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন ভাঙা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুক্তভোগী কিশোরী নিজের শোবার ঘরে ফিরে বড় বোনকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি অন্য কাউকে জানালে কিশোরীকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন অভিযুক্ত জাহিদুল।
পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই জাহিদুলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে উল্টো তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। থানায় মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলে পরিবারকে হুমকি দেন তিনি। এরপর নিরুপায় হয়ে পরিবারটি গ্রামের সর্দারকে বিষয়টি জানায়। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাড়িতে এ নিয়ে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের উপস্থিতিতে সেই সালিশে অভিযুক্ত জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে অপরাধের মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
তবে এমন হাস্যকর ও প্রহসনের বিচার প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগীর পরিবার। তারা কিশোরীকে প্রথমে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরী ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আলামত (সোয়াব) সংগ্রহ করা হয়েছে। চিকিৎসকের চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই জানান, তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির। কেউ কিছু বললে সে সহজেই বিশ্বাস করে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি অবগত আছে। কিশোরীর পরিবারকে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জাহিদুল পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে